
দুপুরেই স্যারের সাথে টেলিফোনে সাক্ষাৎতের বিষয়ে কথা হয়েছিলো সাংবাদিক রাশিম মোল্লার সাথে। সেই সূত্রেই হাজির হয়েছিলাম বাংলা প্রকাশ প্যাভিলিয়নে । বই মেলার পাঠকদের উপচে পড়া ভীড়। ভিতরে প্রবেশ করা দুস্কর হয়ে পড়েছিলো । একের পর এক অটোগ্রাফ দিয়ে যাচ্ছেন ৮৬ বছর বয়সী লেখক ড. ফয়জুর রহমান আল সিদ্দিক । অবশেষে স্যারের দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হই। গ্রামের নাম বলাতে চিনতে না পারলেও শিকারীপাড়ার কথা বলাতেই চিনতে পারলেন । বয়সের ভারে নূয্য কিন্তু মনোবল বেশ শক্ত। যা যা জিজ্ঞেস করার আমরা দুজন একে একে স্যারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে উত্তর পেয়ে যাচ্ছিলাম। আবার অনেক সময় কাজ বাদ দিয়েই উত্তর দিচ্ছিলেন। বিকেলের ক্লান্ত-অবশান্ত দেহ নিয়ে উত্তর দিচ্ছিলেন- জন্মভূমি নবাবগঞ্জ এর প্রসংগে তুলতেই মনে হলো আবার প্রান ফিরে পেলেন এই জীবন্ত কিংবদন্তী । নিজেদের কাছে অনেকটা স্বপ্নের মতো মনে হলো এমন এক বিজ্ঞজনের সামনে বসে কথা বলছি। আবার গর্বে মন ভরে যাচ্ছে এই ভেবে স্যারের জন্মস্থান আমাদের প্রিয় নবাবগঞ্জে। গ্রামের প্রতি জন্মভূমির প্রতি নিদারুন উদ্দীপনা তাঁর কথাতে খুঁজে পেলাম। দোহার নবাবগঞ্জে মাদকের প্রসংগে তিনি যুব সমাজকে বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সকলকে এগিয়ে আসতে বলেন । স্যারের লেখা “বাঙালির সাফল্য ও ব্যর্থতা” বইটি এখন বই মেলার সবচেয়ে আকর্ষনীয় । স্যারের সঙ্গী যে যুবকটি সহযোগীতা করছেন তিনি জানান স্যারের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং মেয়ে শিক্ষকতা পেশায় রয়েছেন। বাংলা প্রকাশ সূত্রে জানা যায় সকালে স্যারের লেখাটি বইটি আমরা বসা থাকা অবস্থায় বিক্রি শেষ হয়ে যায়। ১০০০ বই আজ বিক্রি হয় । জীবন সায়াহ্নের শেষ প্রান্তে এই বই এতোটা সাড়া পাবেন- তাঁর ভাষায় “ আমি প্রস্তুত ছিলাম না”। একটি ভাল বই একজন মানুষকে কত উপরে নিয়ে যেতে পারে ৮৬ বছর বয়সী লেখক ড. ফয়জুর রহমান আল সিদ্দিক এর প্রমান। প্রচন্ড ভীড়ে যখন খুব ক্লান্ত হয়ে যান স্যারের সাথে যুবকটিকে দেখিয়ে দেন উত্তর দিতে। স্যারের পল্লবী বাসায় ভাড়া থাকেন এই যুবক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এতোটা সাড়া পাবেন কেউ ভাবেননি।
পরবর্তী বইয়ে নবাবগঞ্জের কিছু বিষয় তুলে নিয়ে আসবেন। শান্ত স্বভাব সহজ সরল মানুষটির দিকে বারবার তাকালাম কতটা জ্ঞান অর্জন করে ফেলেছেন। এমন একজন জ্ঞানী মানুষের সান্নিধ্য পাওয়া কৃতজ্ঞতা শেষ করতে পারলাম না। জন্মভূমি নবাবগঞ্জের কথা আবার স্মরন করাতে : একদিন বাসায় এসো, অনেক কথা বলা যাবে”। আসবো বলে বিদায় নিয়ে চলে এলাম। আল্লাহর নিকট দোয়া চাইলাম এই মানুষটিকে সুস্থ্যতা দান করুন- তাঁর জ্ঞানের আলো বিলিয়ে দেওয়ার সবে মাত্র শুরু হয়েছে-দেওয়ার আছে আরো অনেক কিছু। তাঁর জ্ঞানের আলো পাল্টে যেতে পুরো সমাজ ব্যবস্থা।
স্যার আমাদের সমাজ ব্যবস্থার একটি দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করেছেন।
রানা ভূঁইয়া- ব্যাংক কর্মকর্তা ও দপ্তর সম্পাদক save the society & thunderstorm awareness forum
No comments:
Post a Comment