Thursday, February 6, 2020

বইমেলায় ইমরান পরশের নতুন বই ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের গল্প’

মোট তেরটি গল্প রয়েছে বইটিতে। গল্পগুলো হলো- বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা, আদিবার বিজয় দিবস, দাদুর হাসি, গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত হলো, রুনু কাকার ফিরে আসা, আদিবা ও দোয়েলের গল্প, রাসেল স্কুলে আসেনি, আদিবা ও টিনটিন, আমার সোনার বাংলা, তুই রাজাকার, সজলের যুদ্ধে যাওয়া, রাজিনের স্কুল, শাফিনের দাদার গল্প
শাফিনের দাদার গল্প
শাফিনের দাদা শরীফ উদ্দিন মুন্সি। আশি বছর বয়সেও শরীরে জোর আছে। এলাকার স্কুল, কলেজ, সামাজিক কোনো অনুষ্ঠান হলেই সবাই অতিথি করে নিয়ে যান। শাফিনও মাঝে মাঝে দাদার সাথে যায়। ফুল দিয়ে দাদাকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিশেষ করে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস এলে দাদাকে অনেক ব্যস্ত থাকতে হয়। সারাদিন শুধু অনুষ্ঠান আর অনুষ্ঠান।
দাদাকে সবাই বলে ‘বীরপ্রতীক’ বলে। শাফিন এর মানে বোঝে না। তবে তাদের বাড়িতে অনেক বড় বড় মানুষ আসে এটা বোঝে। জেলা প্রশাসক এসেছিলেন সেদিন। ঢাকায় বড় একটা অনুষ্ঠানে দাদাকে ডেকেছে। শাফিনও দাদার সাথে যাবার বায়না ধরল। কয়েকটা টেলিভিশনেও নাকি কথা বলতে হবে। দাদা সাধারণত টেলিভিশনে কথা বলতে চান না। অনেক সময় সত্য কথা নাকি এখানে বলা যায় না। এজন্য দাদাও এসব টেলিভিশন এড়িয়ে চলেন। শাফিনের দাদা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একাত্তরে নিজের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন।
নীরা শাফিনের ফুফাত বোন। ক্লাস টেনে পড়ে। একদিন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়তে গিয়ে নানার নাম দেখে তো অবাক। নীরার নানাই তো শাফিনের দাদা। বঙ্গবন্ধুর সাথে তিনি রেসকোর্স ময়দানে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু যখন ৭ মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন তখন তিনিও সেখানে ছিলেন। তারপর বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়িয়েছেন।
২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে তিনি পালিয়ে এলাকায় চলে আসেন। এলাকায় এসে নিজে একটি বাহিনী গড়ে তোলেন। রাজশাহী, বগুড়া, গাইবান্ধার অনেক জায়গায় গিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেছেন। পাকবাহিনির বিরুদ্ধে তিনি কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। যুদ্ধের স্মৃতি হিসেবে তিনি বইও লিখেছেন।

No comments:

Post a Comment