কিন্তু তারপরও তারা বইয়ের পাতায় সহজভাবে পড়ার ছলে জানতে চায় বেশ কিছু বিষয়। তাই সমকালীন বিভিন্ন বিষয় যা নিয়ে কিশোরদের (অচিরেই তারা তরুণ-যুবক হয়ে যাবে) মধ্যে রয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব। সে বিষয়গুলো নয়টি গল্পের মাধ্যমে লেখক মৌলি আজাদ তার লেখায় তুলে ধরেছেন। প্রতিটি গল্পের বিষয় একেবারে আলাদা, কিন্তু বর্তমান সময়ের জন্য ভীষণ প্রাসঙ্গিক।
একবিংশ শতাব্দীতে এসেও পৃথিবীতে যুদ্ধ হতে দেখলে একজন ‘যুদ্ধ শিশু’র মনের অবস্থা কী দাঁড়ায় তা নিয়েই গল্প ‘স্টপ ওয়ার’।
মাঝে মধ্যেই দেশের ভেতরে থাকা নানা অপশক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে চায়। আমাদের কিশোরদের তাদের পথে নেওয়ার জন্য নানা ফাঁদ পাতে তারা। সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে কিশোর ও অভিভাবকদের। এ বিষয় নিয়ে গল্প ‘আমরা ঘুরে দাঁড়াব’।
স্নেহের ছলে বড়দের কিশোর-কিশোরীদের শরীর স্পর্শ- তা কি হতে পারে? এ স্পর্শ একসময় কিশোর-কিশোরীদের জীবনে ‘ট্রমা’ হয়ে পড়ে। এ কনসেপ্ট নিয়ে গল্প ‘ট্রমা’।
কিশোর-কিশোরীদের নিজেদের ইচ্ছামত পড়া ও কাজের স্বাধীনতার গল্প ‘আমাদেরও ইচ্ছে আছে’। ‘রোবটিয়ান’ গল্পটি আজ থেকে ২০ বছর পরের গল্প, যেখানে একজন তরুণ সবরকম আধুনিক সুযোগ-সুবিধার মধ্যে থাকার পরও প্রকৃতির কাছে সে যে কতটা অসহায় তাই দেখানো হয়েছে। গল্পটি পড়লে মনে হবে এ আসলে গল্প নয়, চারপাশে তাকালেই বোঝা যাবে গল্পের কাহিনী আমাদের জীবনে কতটা সত্য!
দেশের চেয়ে প্রিয় সবার কাছে আর কীই বা আছে? আর তাই ‘প্রিয় বাংলাদেশ’ গল্পের পাতায় পাতায় পাওয়া যাবে ‘সবুজ বাংলাদেশের ছবি’। ‘প্রিয় বাংলাদেশ’ লেখাটি কিশোরদের দেশকে আরো ভালবাসতে, দেশকে জানতে আরো উৎসাহিত করবে বৈকি।
‘মনে চর পরেছে কি’ ও ‘ভালোবাসি জীবন’এ দুটি লেখা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক সময়ে কিশোরদের বোধ-মানবিকতাকে জাগিয়ে তুলবে। যাদের সামনে পরে আছে দীর্ঘপথ, এত সহজে তাদের মনে জং ধরলে কি চলে? রবিবাবু তো সেই কবেই বলে গেছেন, ‘চিরযুবা তুই যে চিরজীবী, জীর্ণজরা ঝরিয়ে দিয়ে প্রাণ অফুরান ছড়িয়ে দেদার দিবি’।
বইটি সম্পর্কে লেখক মৌলি আজাদ বলেন, “আর যা কিছু যত মাধ্যমেই জানি না কেনো কালো অক্ষরে লেখা বাঁধাই করা বইয়ের উপরে আছে নাকি কিছু? নতুন বা পুরাতন যে বই-ই পড়ি না কেন তা পড়ার মতো হলে তা মনে গেঁথে থাকে। বই জীবনে নতুন পথের সন্ধান দেয়। বই সারা পৃথিবীকে চোখের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। বই আমাদের হাসায়, কাঁদায়। বইয়ের পাতা স্বপ্ন বলে।”
বইটি সহজপাঠ্য, কিশোরদের মনোজগতে নাড়া দেবে।
No comments:
Post a Comment