খন্দকার দেলোয়ার জালালী ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:০৭ | অনলাইন সংস্করণ
“দখিনের দ্বীপ” অসাধারণ এক উপন্যাস। গ্রাম বাংলার এক
হৃদয়স্পর্শী গল্প চিত্রিত হয়েছে দখিনের দ্বীপে। গল্পের ভাজে ভাজে রোমাঞ্চ ও
আতংক স্পষ্ট। কঠিন অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে গল্পের প্রতিটি মুহূর্ত।
অজোপাড়া গায়ের দিন ও রাতের ছবি নিখুঁত ভাবে ফুটে উঠেছে দখিনের দ্বীপে।
গল্পে যেমনি ভাবে ফুটে উঠেছে গ্রামাঞ্চলের মানুষের চরিত্র, তমনি করে উঠে
এসেছে হাজারো পাখি আর বন্য প্রাণীর বৈচিত্রময় আচরণের বর্ণনা। মৌমাছি, ঝিঝি
পোকা, হরিণ আর নোনাপানির অসংখ্য মাছ এর বর্ণনা এসেছে উপন্যাসে। অসাধারণ
বর্ণনা আছে গ্রামাঞ্চলের সুস্বাদু খাবারের।
দস্যু প্রকৃতির চেয়ারাম্যান পুত্র মোতালেবের প্রতারণার শিকার দিন মজুরের একমাত্র কন্যা আসমা। গর্ভবতী হয়ে উপায়হীন আসমা আত্মহত্যা করে। আর চেয়ারম্যানের ষড়যন্ত্রে ভিটেমাটি হারানোর শংকার মধ্যেও আসমার বাবা জলিল গাজী প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পনা করেন। গল্পের শুরু এখানেই।
চেয়ারম্যানের একমাত্র অষ্টাদশী সুন্দরী ফুলবানুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে জলিল গাজীর ছেলে জহির। প্রতিশোধ নিতে প্রেমের অভিনয় শুরু হলেও, শাশ্বত প্রেমে জড়িয়ে পড়ে ফুলবানু ও জহির।
নিজের একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে জলিল গাজীও প্রতিশোধের আগুন নিভিয়ে চেয়ারম্যান কন্যা ফুলবানুকে নিজ কন্যার মত ভালোবাসতে থাকেন। প্রতাপশালী চেয়ারম্যানের আক্রোশ থেকে বাঁচতে রাতের আধারে জলিল গাজী ভিটেমাটি বিক্রি করে মেঘনা পাড়ি দিয়ে পরিবার নিয়ে আশ্রয় নেয় জনমানবহীন একটি দ্বীপে বসতি গড়েন।
জনমানবহীন বিচ্ছিন্ন দ্বীপে আদিম যুগের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি জলিল গাজীর পরিবার। কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় জীবন যুদ্ধ। প্রতি মুহূর্তে বন্য প্রাণীর আক্রমণে প্রাণহানীর আশংকা আবার জীবন বাঁচাতে খাবার সংগ্রহেও অবর্ণনীয় সংগ্রাম। কয়েক বছরের মধ্যে বাসযোগ্য হয়ে উঠে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। উৎপাদন শুরু হয় ধান, শাক-সবজি। আর সাগরের মাছ বিক্রি করতে শুরু করে মেঘনার ওপারের গ্রাম্য বাজারে।
পাখি প্রেমী দুই বন্ধু ঘুরতে এসে ট্রলার বিকল হয়ে ভাসতে ভাসতে পৌঁছে যান বিচ্ছিন্ন সেই দ্বীপে। জলিল গাজীর অকৃত্রিম সহায়তায় জীবনে বেঁচে যান দুই বন্ধু। ফিরতে পারেন নিজ ঠিকানায়। তাদের বর্ণনায় আপ্লুত হয়ে ঐ চরে আসেন জেলা প্রশাসক। তারপর পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে ওঠে সাগর মাঝের সেই। তারপর গল্প মোড় নেয় ভিন্ন দিকে। অসাধারণ এই গল্পটি নিঃসন্দেহে চলচ্চিত্রে রূপ নেয়ার যোগ্যতা রাখে।
উপন্যাসের লেখক শহীদুল ইসলাম পেশায় একজন চিকিৎসক। মানব সেবায় সুখ্যাতি আছে তাঁর। কয়েক বছর আগে মুন্সিগঞ্জের সিভিল সার্জন হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছেন। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি গল্প-উপন্যাস লেখেন তিনি।
গেলো কয়েক বছর অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় তাঁর বেশ ক’টি উপন্যাস বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ বছর ডাঃ শহীদুল ইসলামের গল্প সংকলন “নিষিদ্ধ গল্প” প্রকাশিত হয়েছে পেন্সিল প্রকাশনস থেকে। এছাড়া গেলা বছর ভূমি প্রকাশ থেকে “প্রত্যাবর্তন” এবং চৈতন্য প্রকাশনী থেকে “নিঝুম দ্বীপ” নামে প্রকাশিত দুটি উপন্যাস বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
দখিনের দ্বীপ এবছর ভূমি প্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ভূমি প্রকাশের সাতশো বাইস নম্বর স্টলে। বইটির মূল্য দুই শত টাকা। প্রচ্ছদ এঁকেছেন আবুল ফাতাহ। নীল আকাশের নিচে বিশাল সমুদ্রের মাঝে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপের দিকে ছুটে চলছে ছোট্ট একটি নৌকা। গল্পের সাথে দারুণ ভাবে মিলে গেছে প্রচ্ছদের ভাষা।
এছাড়া শব্দ চয়ন এবং বাক্য গঠনে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন শহীদুল ইসলাম। একজন চিকিৎসক হয়ে তিনি বাংলায় অসামান্য দখলের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এছাড়া গল্পের পর্ব বিন্যাসে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন লেখক।
বইটি উৎসর্গেও রয়েছে রহস্য। একজন উপজেলা চেয়ারম্যানকে উৎসর্গ করেছেন বইটি। যার সাথে লেখকের এখনো দেখা হয়নি। কয়েক বছর আগে লেখকের বন্ধু মেট্রোরেলের তখনকার প্রধান প্রকৌশলী একটি গ্রুপ নিয়ে হাতিয়া উপজেলায় বেড়াতে যান।
সেখানকার উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুব মোর্শেদ হাতিয়া পরিদর্শনে যাওয়া উচ্চপদস্থ ওই দলের প্রত্যেককে শহীদুল ইসলাম এর লেখা “নিঝুম দ্বীপ” উপন্যাসটি উপহার দেন। বন্ধুর কাছে জেনে এক অসাধারণ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাপূর্ণ বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে তাদের মাঝে। না ফেরার দেশে যাবার আগে অদেখা বন্ধুর সাক্ষাত আশা করেছেন লেখক।
আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টায় অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় মোড়ক উন্মোচন হবে “দখিনের দ্বীপ” ও “নিষিদ্ধ গল্পের। নিঃসন্দেহে দখিনের দ্বীপ পাঠকদের অন্তর জয় করবে। একটি সফল ও পাঠক প্রিয় উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃতি পাবে দখিনের দ্বীপ। দখিনের দ্বীপ দৃষ্টান্ত হতে পারে বাংলা সাহিত্যে।
লেখক: খন্দকার দেলোয়ার জালালী, সাংবাদিক ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি
দস্যু প্রকৃতির চেয়ারাম্যান পুত্র মোতালেবের প্রতারণার শিকার দিন মজুরের একমাত্র কন্যা আসমা। গর্ভবতী হয়ে উপায়হীন আসমা আত্মহত্যা করে। আর চেয়ারম্যানের ষড়যন্ত্রে ভিটেমাটি হারানোর শংকার মধ্যেও আসমার বাবা জলিল গাজী প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পনা করেন। গল্পের শুরু এখানেই।
চেয়ারম্যানের একমাত্র অষ্টাদশী সুন্দরী ফুলবানুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে জলিল গাজীর ছেলে জহির। প্রতিশোধ নিতে প্রেমের অভিনয় শুরু হলেও, শাশ্বত প্রেমে জড়িয়ে পড়ে ফুলবানু ও জহির।
নিজের একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে জলিল গাজীও প্রতিশোধের আগুন নিভিয়ে চেয়ারম্যান কন্যা ফুলবানুকে নিজ কন্যার মত ভালোবাসতে থাকেন। প্রতাপশালী চেয়ারম্যানের আক্রোশ থেকে বাঁচতে রাতের আধারে জলিল গাজী ভিটেমাটি বিক্রি করে মেঘনা পাড়ি দিয়ে পরিবার নিয়ে আশ্রয় নেয় জনমানবহীন একটি দ্বীপে বসতি গড়েন।
জনমানবহীন বিচ্ছিন্ন দ্বীপে আদিম যুগের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি জলিল গাজীর পরিবার। কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় জীবন যুদ্ধ। প্রতি মুহূর্তে বন্য প্রাণীর আক্রমণে প্রাণহানীর আশংকা আবার জীবন বাঁচাতে খাবার সংগ্রহেও অবর্ণনীয় সংগ্রাম। কয়েক বছরের মধ্যে বাসযোগ্য হয়ে উঠে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। উৎপাদন শুরু হয় ধান, শাক-সবজি। আর সাগরের মাছ বিক্রি করতে শুরু করে মেঘনার ওপারের গ্রাম্য বাজারে।
পাখি প্রেমী দুই বন্ধু ঘুরতে এসে ট্রলার বিকল হয়ে ভাসতে ভাসতে পৌঁছে যান বিচ্ছিন্ন সেই দ্বীপে। জলিল গাজীর অকৃত্রিম সহায়তায় জীবনে বেঁচে যান দুই বন্ধু। ফিরতে পারেন নিজ ঠিকানায়। তাদের বর্ণনায় আপ্লুত হয়ে ঐ চরে আসেন জেলা প্রশাসক। তারপর পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে ওঠে সাগর মাঝের সেই। তারপর গল্প মোড় নেয় ভিন্ন দিকে। অসাধারণ এই গল্পটি নিঃসন্দেহে চলচ্চিত্রে রূপ নেয়ার যোগ্যতা রাখে।
উপন্যাসের লেখক শহীদুল ইসলাম পেশায় একজন চিকিৎসক। মানব সেবায় সুখ্যাতি আছে তাঁর। কয়েক বছর আগে মুন্সিগঞ্জের সিভিল সার্জন হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছেন। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি গল্প-উপন্যাস লেখেন তিনি।
গেলো কয়েক বছর অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় তাঁর বেশ ক’টি উপন্যাস বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ বছর ডাঃ শহীদুল ইসলামের গল্প সংকলন “নিষিদ্ধ গল্প” প্রকাশিত হয়েছে পেন্সিল প্রকাশনস থেকে। এছাড়া গেলা বছর ভূমি প্রকাশ থেকে “প্রত্যাবর্তন” এবং চৈতন্য প্রকাশনী থেকে “নিঝুম দ্বীপ” নামে প্রকাশিত দুটি উপন্যাস বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
দখিনের দ্বীপ এবছর ভূমি প্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ভূমি প্রকাশের সাতশো বাইস নম্বর স্টলে। বইটির মূল্য দুই শত টাকা। প্রচ্ছদ এঁকেছেন আবুল ফাতাহ। নীল আকাশের নিচে বিশাল সমুদ্রের মাঝে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপের দিকে ছুটে চলছে ছোট্ট একটি নৌকা। গল্পের সাথে দারুণ ভাবে মিলে গেছে প্রচ্ছদের ভাষা।
এছাড়া শব্দ চয়ন এবং বাক্য গঠনে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন শহীদুল ইসলাম। একজন চিকিৎসক হয়ে তিনি বাংলায় অসামান্য দখলের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এছাড়া গল্পের পর্ব বিন্যাসে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন লেখক।
বইটি উৎসর্গেও রয়েছে রহস্য। একজন উপজেলা চেয়ারম্যানকে উৎসর্গ করেছেন বইটি। যার সাথে লেখকের এখনো দেখা হয়নি। কয়েক বছর আগে লেখকের বন্ধু মেট্রোরেলের তখনকার প্রধান প্রকৌশলী একটি গ্রুপ নিয়ে হাতিয়া উপজেলায় বেড়াতে যান।
সেখানকার উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুব মোর্শেদ হাতিয়া পরিদর্শনে যাওয়া উচ্চপদস্থ ওই দলের প্রত্যেককে শহীদুল ইসলাম এর লেখা “নিঝুম দ্বীপ” উপন্যাসটি উপহার দেন। বন্ধুর কাছে জেনে এক অসাধারণ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাপূর্ণ বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে তাদের মাঝে। না ফেরার দেশে যাবার আগে অদেখা বন্ধুর সাক্ষাত আশা করেছেন লেখক।
আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টায় অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় মোড়ক উন্মোচন হবে “দখিনের দ্বীপ” ও “নিষিদ্ধ গল্পের। নিঃসন্দেহে দখিনের দ্বীপ পাঠকদের অন্তর জয় করবে। একটি সফল ও পাঠক প্রিয় উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃতি পাবে দখিনের দ্বীপ। দখিনের দ্বীপ দৃষ্টান্ত হতে পারে বাংলা সাহিত্যে।
লেখক: খন্দকার দেলোয়ার জালালী, সাংবাদিক ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি

No comments:
Post a Comment